টাইগার মথের (Arctiinae) ক্যাটারপিলার!

Authors: Sayema Jahan, Jahir Rayhan

©️Jahir Rayhan

ছবিটি টাইগার মথের (Arctiinae) ক্যাটারপিলার/শুঁয়াপোকার যা পরজীবী বোলতা দ্বারা আক্রান্ত।ক্যাটারপিলারটির গায়ে যে সাদা বস্তু দেখা যাচ্ছে এগুলো বোলতার লার্ভা/বাচ্চা। দ্বিতীয় ছবিতে লার্ভাগুলো আলাদা করে দেখানো হয়েছে (মাইক্রোস্কোপে ২০X বিবর্ধিত)

স্ত্রী বোলতা তাদের ডিম পাড়বার অঙ্গ অভিপজিটর দিয়ে মথের ক্যাটারপিলারের দেহ ছিদ্র করে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বোলতার লার্ভা বেরিয়ে ক্যাটারপিলারের দেহের নরম অংশ খেয়ে পুষ্টি পেয়ে বেড়ে ওঠে। যতদিন পর্যন্ত বোলতার ডিম ও লার্ভা ক্যাটারপিলারের দেহে থাকে ততদিন ক্যাটারপিলারটি প্যারালাইজড অবস্থায় নিশ্চল বেঁচে থাকে৷ একটা সময়ে বোলতার লার্ভা ধীরে ধীরে ক্যাটারপিলারটিকে মেরে ফেলে।

কিন্তু স্ত্রী বোলতা ক্যাটারপিলারের দেহে ডিম পাড়ার পরে ডিমগুলো নষ্ট হয় না কেনো?
এ প্রশ্নের উত্তর বেশ দারুণ!
ক্যাটারপিলারের দেহের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ডিমগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এমনটি সব সময় ঘটে না! কারণ এর পেছনে আছে এক জাতীয় ভাইরাসের ভূমিকা!!
ভাইরাসকে আমরা ক্ষতিকর রোগ সৃষ্টিকারী অকোষীয় কিছু মনে করলেও ভাইরাস কিন্তু সর্বাবস্থায় ক্ষতিকর নয়। যেমনঃ আমাদের স্তন্যপায়ী প্রাণীদের প্লাসেন্ট/অমরা -র বিবর্তনের পেছনে রয়েছে ভাইরাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূকিকা।
ঠিক তেমনি বোলতার ডিমকে ক্যাটারপিলারের দেহে অক্ষত রাখার জন্য কাজ করে এক ধরণের ভাইরাস। এরা বোলতার দেহে থাকে। স্ত্রী বোলতা যখন ক্যাটারপিলারের গায়ে ডিম পাড়ে তখন ডিমের সাথেসাথে বোলতার দেহ থেকে ভাইরাসের বংশগতীয় বস্তু/জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল ঢুকে যায় ক্যাটারপিলারের দেহে। ক্যাটারপিলারের দেহে গিয়ে ভাইরাসের জিন তার বৈশিষ্ট প্রকাশ করে প্রোটিন উৎপাদনের দ্বারা। আর এই বৈশিষ্ট্য ক্যাটারপিলারের দেহের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নষ্ট করে ক্যাটারপিলারের দেহে বোলতার ডিমকে অক্ষত রাখতে সাহায্য করে।

এবাবে কোটি বছরের বিবর্তনের ধারায় ভাইরাস, ক্যাটারপিলার ও বোলতার মাঝে গড়ে উঠেছে এক দারুণ নান্দ্যনিক সম্পর্ক! কি বিস্ময়কর আমাদের এই প্রকৃতি জগৎ, তাই নয় কি!!

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started